গণমাধ্যম হলো সমাজের আয়না। এই আয়নায় সমাজের সৌন্দর্য যেমন প্রতিফলিত হয়, তেমনি অসঙ্গতিও ধরা পড়ে স্পষ্টভাবে। কিন্তু যখন সেই আয়নাকেই কলঙ্কিত করার চেষ্টা হয়, তখন সমাজ নিজের মুখটাই দেখতে পায় না।
আজকের বাস্তবতায় আমরা দেখছি, গণমাধ্যম কর্মীদের নানা ট্যাগ, বিভাজন কিংবা অপপ্রচারের মাধ্যমে তাদের কাজকে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। এটি শুধু সাংবাদিকদের ব্যক্তিগত বা পেশাগত সংকট নয়; বরং এটি পুরো সমাজের ন্যায়ভিত্তিক কাঠামোকে দুর্বল করে দিচ্ছে।
গণমাধ্যমের কাজ সত্য প্রকাশ করা-যা কখনোই সহজ নয়। কারণ সত্যের মুখোমুখি হতে চায় না অনেকে, বিশেষত যারা মিথ্যার আশ্রয়ে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করে। কিন্তু সাংবাদিকের দায়িত্ব সেই কঠিন সত্যটাই তুলে ধরা, যত বাধাই আসুক না কেন। সাংবাদিকতার মূল ভিত্তি হলো সত্য, ন্যায় এবং সাহস। তাই সাংবাদিকের উচিত সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলা-বিন্দুমাত্র ভয় বা সুবিধার মোহে নিজের অবস্থান থেকে সরে না আসা।
অন্যদিকে, রাষ্ট্রযন্ত্র ও সমাজপতিদেরও বুঝতে হবে- গণমাধ্যমের স্বাধীনতা দমন করা মানে নিজের চোখে পর্দা টেনে দেওয়া। কারণ, সাংবাদিকরা সমাজের সেই পরিচ্ছন্ন কর্মী, যারা অন্যায়, দুর্নীতি ও অসঙ্গতির ময়লা পরিষ্কার করে সমাজকে সুস্থ রাখতে কাজ করেন। যদি সেই পরিচ্ছন্ন কর্মীর হাত বাধা হয়, তাহলে সমাজে জমে থাকা অন্যায়ের দুর্গন্ধ একদিন পুরো ব্যবস্থাকে নষ্ট করে দেবে।
একটি ন্যায়নিষ্ঠ রাষ্ট্র ও সমাজ গঠনে গণমাধ্যমের ভূমিকা অপরিসীম। সংবাদকর্মীদের নির্ভীকভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। একই সঙ্গে সাংবাদিকদেরও নিজেদের পেশাদার সততা, বস্তুনিষ্ঠতা ও নৈতিকতার মানদণ্ডে অটল থাকতে হবে। কারণ গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা হারালে সমাজ তার দিকনির্দেশক আলোর উৎসও হারায়।
আজ আমাদের প্রয়োজন সাহসী, নিরপেক্ষ ও মানবিক সাংবাদিকতা। যে সাংবাদিকতা মানুষের পক্ষে দাঁড়াবে, সত্যের পক্ষে কথা বলবে এবং সমাজকে একটি সঠিক পথে পরিচালিত করবে। সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন গণমাধ্যম হবে স্বাধীন, সাংবাদিক হবে সত্যনিষ্ঠ, আর জনগণ পাবে নির্ভরযোগ্য তথ্যের নিশ্চয়তা।
গণমাধ্যম কেবল খবরের বাহক নয়-এটি সমাজের বিবেক। তাই এই বিবেককে রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব, কারণ বিবেক হারালে মানুষ হারায় তার মানবিকতা, আর মানবিকতা হারালে হারিয়ে যায় সমাজের ন্যায় ও শান্তি।
মুসাদ্দেক আল আকিব
লেখক ও গণমাধ্যমকর্মী