আমার রিসার্চের কাজে চর এলাকায় যাই। তিস্তা নদীর চরে ।চরগতি আসাম, মধ্যচর,ঢোসমারা চর। নৌকা দিয়ে নদী পার হয়ে যেতে হয় সেসব জায়গায় । চর এলাকার মানুষের জীবন একদম কাছে থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে। তাদের জীবন আসলেই কষ্টের খুব। সেখানে তারা তাদের রোগ, অসুখ বিসুখে কোনো স্বাস্থ্যসেবা পায় না। এমনকি তাদের কাছে নাকি কোনো স্বাস্থ্যকর্মীরাও পৌছাঁয় না। তারা কত অবহেলিত জীবনযাপন করে অথচ স্থায়ী প্রতিনিধিদের এ নিয়ে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। ফ্যাসিবাদী সরকার থাকাকালীন কিংবা এখন তাদের কোনো অবস্থারই উন্নতি নেই। তাদের সাথে কথা বলে জানতে পারলাম, তারা খুবই কম সাহায্য পায়। নাম মাত্র সাহায্যে তাদের কিছুই উপকার হয় না। ভাগ্য বদলায় না। গেলো বন্যায় তারা কোনো ধরনের সাহায্যই পায়নি। স্থানীয় প্রতিনিধি থেকে উপর মহল কারো কোনো মাথাব্যথা নেই। যদি আমরা প্রান্তিক দিক থেকে আমাদের মানুষদের উন্নতি না করতে পারি তাহলে আমাদের কোথায় কোথায় সমতা বজায় রক্ষা হলো? কোন সংস্কারের নামেই বা দেশ সংস্কার চলছে?
সরকার আসবে, সরকার যাবে তাদের অবস্থার কোনো পরিবর্তন নেই। তাদের হয়ে কথা বলার কোনো প্রতিনিধি নেই। আর কোন ধরনের রাষ্ট্র সংস্কার হলে তাদের দুঃখ ঘুচবে? আমরা জেলায় জেলায় লং মার্চ দিতে পারি, নানা বক্তব্য সেমিনার এটেন্ড করি, স্টেজে উঠে সাহসী কন্ঠে বক্তৃতা হবে কিন্তু উত্তরবঙ্গের বন্যাকবলিত মানুষদের অবস্থার উন্নতি হবে না।যাদের সামান্য জ্বরেও ঘণ্টাখানেক সময় নিয়ে নদী পার হয়ে ফার্মেসীতে যেতে হয়? তারা আর কত কষ্ট করলে নদী পার না হয়ে ওষুধপত্রের সুবিধা পাবে তাদের স্বাস্থ্যের খোঁজ রাখা হবে? এখানক না আছে মেয়েদের সুস্থ নিরাপদ স্যানিটেশনের ব্যবস্থা, আর না পরিবারব্যবস্থার নিরাপদ পদ্ধতির কোনো সুবিধা। তারা জানে না স্যানিটারী ন্যাপকিন কি? কিভাবে ব্যবহার করতে হয়?
এসবের সমাধান হোক, তাদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়ানো হোক। তারাও মানুষ, তাদেরও রয়েছে নিরাপদ খাদ্য,চিকিৎসা, শিক্ষা ও নিরাপত্তার অধিকার।
তারাও এদেশের নাগরিক। তাদের নাগরিক সুবিধা বলি,আর মানবাধিকার বলি রাষ্ট্র তা দিতে বাধ্য। তারা চায় নিরাপদ, সুন্দর ও আধুনিক জীবনের হাতাছানি।
ইরফাত ইয়াসমিন ঐশী
শিক্ষার্থী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, ইডেন মহিলা কলেজ