Campus Post
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  1. সর্বশেষ

‘নারী উন্নয়নের নামে পশ্চিমা মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টা’

প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া
২৩ অক্টোবর ২০২৫, ৯:৪৭ অপরাহ্ণ

Link Copied!

নারী উন্নয়ন” — এটি একটি অস্পষ্ট শব্দ। এটি মূলত পশ্চিমা অর্থায়নে পরিচালিত এনজিওগুলোর প্রচারণার অংশ। “নারী উন্নয়ন”-এর নামে পশ্চিমা অর্থে পরিচালিত কিছু এনজিও আমাদের সংস্কৃতি পরিবর্তনের ষড়যন্ত্র করছে। এটি আসলে আমাদের মূল্যবোধ বদলে দিয়ে পশ্চিমা মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার একটি কর্মসূচি ছাড়া আর কিছু নয়।

যদি তারা সত্যিই নারী উন্নয়ন চায়, তবে নিচের বিষয়গুলো আগে সমাধান করতে হবে —

১. মেয়েদের থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের জন্য ব্যাপক শিক্ষামূলক কর্মসূচি চালু করতে হবে।

২. বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের আর্থিক সহায়তা দিতে হবে, শিক্ষা দিতে হবে, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।

৩. আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করতে হবে এবং সামাজিক নিরাপত্তা দিতে হবে।

৪. লক্ষ লক্ষ নারী শ্রমিক সামাজিক অন্যায়ের শিকার হচ্ছেন— তাদের প্রতি নজর দিতে হবে। তাদের জন্য বিনোদনের ব্যবস্থা, মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নের পদক্ষেপ নিতে হবে। অনেক অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক নারী রয়েছেন— তাদের বিবাহের জন্যও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

৫. আইনগত সহায়তার জন্য পৃথক বিভাগ স্থাপন করতে হবে, তাদের অভিযোগ শুনে সমাধান দিতে হবে যাতে তারা সমাজে মর্যাদার সঙ্গে বাঁচতে পারেন।

৬. তাদের জন্য বা যাদের উপর তারা নির্ভরশীল— তাদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। এনজিওগুলো এতদিনে জাতি গঠনে কী অর্জন করেছে তা প্রকাশ করতে হবে। কতগুলো অনাথালয়ে শিক্ষার ব্যবস্থা করেছেন? কতজন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবী তৈরি করেছেন? সব কিছু প্রকাশ্যে তালিকা আকারে প্রকাশ করুন। আমরা তাত্ত্বিক কথা নয়, বাস্তব ফলাফল দেখতে চাই।

আমরা মিথ্যা প্রচারণায় ক্লান্ত। আপনাদের মূল লক্ষ্য সাহায্য করা নয়, বরং নারীর নাম ব্যবহার করে বিদেশি স্বার্থ বাস্তবায়ন করা।

৭.যাদের জন্য কাজ করছেন, তাদের সঙ্গে আপনাদের জীবনযাত্রার পার্থক্য আকাশ–পাতাল। যদি সত্যিই তাদের জন্য কাজ করতে চান, তবে নিজেদের জীবনযাত্রা তাদের সমতুল্য করুন।

৮. গুলশান, বনানীতে এয়ার কন্ডিশন কক্ষে থেকে, বিলাসবহুল গাড়িতে চলাফেরা করে, দেশের লাখো দরিদ্র নারীর সেবা করা সম্ভব নয়।

৯. আপনারা মাসে কত বেতন পান? আপনার সন্তানদের জীবনযাত্রা কেমন? কতবার বিদেশ ভ্রমণ করেছেন? কত ভাতা ভোগ করেছেন? সব কিছু প্রকাশ্যে প্রকাশ করুন— জনগণ জানতে চায়।

১০. আপনাদের সংস্কৃতি, পোশাক, আচরণ, চিন্তা— সবই পশ্চিমা। আপনারা শরীর ও মনে পশ্চিমা। তাহলে কীভাবে দেশীয় নারীকে উন্নত করবেন? যতক্ষণ পর্যন্ত না আপনারা মানসিকভাবে অন্তত দেশীয় সংস্কৃতির সঙ্গে একাত্ম হচ্ছেন, ততক্ষণ কিছুই দিতে পারবেন না, কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারবেন না।

১১.যদি সত্যিই তারা কথায় ও কাজে আন্তরিক হতো, তবে গাজাবাসীরা আজ এমন বিপর্যয়ের মুখে পড়ত না। তাদের নিষ্ঠুরতা ও অপরাধ স্পষ্ট।

১২. এই এনজিওগুলো নারী ক্ষমতায়নের নামে ইসলামিক আইন তথা কোরআনে বর্ণিত বিধানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। শিশু বিবাহ নিয়ে প্রশ্ন তোলে, কিন্তু প্রাপ্তবয়স্ক অবিবাহিত নারীদের বিয়ের জন্য কোনো বাস্তব পদক্ষেপ নেয় না। যদি নেয়, তাহলে তা প্রকাশ্যে দেখাক। তখনই আমরা তাদের কাজের আন্তরিকতা বিশ্বাস করব।

১৩. তাদের মূল লক্ষ্য সমাজে ব্যভিচার ও নৈতিক অবক্ষয় ছড়িয়ে দেওয়া, যাতে আমাদের সমাজব্যবস্থার ভিত্তি নষ্ট হয়।

১৪. তারা নিজেদের স্বার্থে একই চিন্তার একটি শ্রেণি তৈরি করতে চায়, আমাদের শতাব্দীপ্রাচীন সামাজিক ঐক্য ভেঙে নিজেদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করতে চায়।

১৫. তারা রাজনৈতিক নেতাদেরও প্রভাবিত করে, যেন তাদের মতো সরকার ক্ষমতায় আসে— “গণতন্ত্রের” নামে। অথচ তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। যদি সত্যিই করত, তাহলে মিশরের মুরসি, আলজেরিয়ার হোসাইন মাদানি, পাকিস্তানের ইমরান খান ক্ষমতাচ্যুত হতেন না। আবার সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত বা বাংলাদেশের একনায়কতান্ত্রিক সরকারগুলো টিকে থাকত না। তাদের আসল উদ্দেশ্য হলো সরকারগুলোকে দুর্বল রাখা এবং ভঙ্গুর গণতন্ত্র টিকিয়ে রেখে নিজেদের স্বার্থ সর্বাধিক করা।

মানবতা, নৈতিকতা, গণতন্ত্র— এসবই তাদের ভণ্ড প্রচারণা, আর এনজিওগুলো তাদের হাতিয়ার মাত্র।

তারা ভণ্ড, অপরাধী, লুটেরা। তারা জন্মগতভাবে স্বার্থপর; নিজেদের স্বার্থ ছাড়া কিছু বোঝে না। তাদের পতনের দিন আসন্ন। পশ্চিমা সভ্যতা ও সংস্কৃতি যেই দর্শনের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, তা মিথ্যার ওপর প্রতিষ্ঠিত— যা ইরাক, লিবিয়া, আফগানিস্তান এবং বিশেষত গাজায় স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত।

১৬. তারা গণতন্ত্র রক্ষা করছে না; বরং তাদের শোষণের ফলেই “কল্যাণকর একনায়কতন্ত্র” উঠে আসছে। সাম্প্রতিক মালি, নাইজার, বুরকিনা ফাসো, মাদাগাস্কার— এসব দেশে তাদের শোষণের জবাব দিয়েছে আফ্রিকানরা। পশ্চিমাদের আফ্রিকা থেকে তাড়ানো হচ্ছে, আফ্রিকার শক্তি বাড়ছে, আর পশ্চিমাদের ক্ষমতা কমছে। এই প্রবণতা চলতে থাকবে যতদিন না নতুন শক্তি উদিত হয়।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

মন্তব্য করুন
আরও পড়ুন

শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলনের এপিএস হলেন ওমর ফারুক

২৭তম বিসিএস কর্মকর্তাদের দীর্ঘ বিলম্বের পর যোগদান দেশের ইতিহাসে এক অনাকাঙ্ক্ষিত অধ্যায় : শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষার গুনগত পরিবর্তনে ড. এহছানুল হক মিলনের বিকল্প নেই

ডিএসসিসিতে অফিসার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি চাঁদপুর কচুয়ার প্রকৌশলী মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া

ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের অধিকারহরণের অপকৌশল রুখতে হবে

বাঙালি মুসলিম পরিচয় ও সংস্কৃতিকে নির্বাচনী ইশতেহারে যুক্ত করা সময়ের দাবি

বাংলাদেশ কৃষি প্রকৌশলী সোসাইটির কমিটি গঠিত

চাঁদপুর-৩ আসনের ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী এড. শাহজাহান মিয়া বিষ্ণুপুর ইউনিয়নে দাঁড়িপাল্লা মার্কায় গণসংযোগ

হাইমচরে অটোরিকশার ধাক্কায় ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী গুরুতর আহত, হাসপাতালে ছুটে গেলেন এড. শাহজাহান মিয়া

হাইমচর সমিতির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাহবুব-উল-আলম নির্বাচিত

শিক্ষকতা কোনো সাধারণ চাকরি নয়; এটি একটি আজীবন দায়িত্ব : শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের নতুন সচিব ড. জিয়াউল হক