চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচন নিয়ে ও ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি বিষয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) দুপুর আড়াইটায় চাকসু কেন্দ্রের প্রাঙ্গণে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়। এসময় ছাত্রদলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চবি ছাত্রদলের সভাপতি আলউদ্দিন মহসিন ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান।
এসময় উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, চাকসু নির্বাচনের গঠনতন্ত্রে এমফিল পিএইচডির শিক্ষার্থীদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত চবি ছাত্রদল প্রত্যাখ্যান করেছে। আমরা মনে করি, এটা একটা অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত। কোনো একটি পক্ষকে সুবিধা দেওয়ার জন্য চবি প্রশাসন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে আমাদের মনে হয়। এটা একপ্রকার পক্ষপাতিত্বের শামিল। তাছাড়া চাকসু নির্বাচন আয়োজনে নির্বাচন কমিশন গঠন করা কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা রাখা হয়নি। অথচ, ডাকসু ও রাকসু নির্বাচনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন গঠনে নীতিমালা আছে।
এসময় চবি ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইয়াছিন বলেন, চাকসু গঠনতন্ত্র অনুমোদন করার আগে চবি প্রশাসন অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনায় বসেছেন। সেখানে এমফিল পিএইচডির শিক্ষার্থীদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন শিক্ষার্থীরা। তবে চাকসু গঠনতন্ত্র অনুমোদনের সময় এমফিল পিএইচডির শিক্ষার্থীদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার নীতিমালা যুক্ত করা হয়। তবে এ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়, বয়সসীমা ৩০ বছর। এই নীতিমালা পরস্পর সাংঘর্ষিক। এটা বৈষম্যমূলক। আমরা এই নীতিমালা প্রত্যাখ্যান করেছি।
চবি ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মামুনুর রশীদ বলেন, চবি আবাসিক হলগুলোতে মিল সিস্টেম চালুর কারণে অনেক সাধারণ শিক্ষার্থীকে ভোগান্তির পড়তে হচ্ছে। অনাবাসিক শিক্ষার্থীরা অনেক বেশি সমস্যায় পড়েছেন। আমরা চাই, আবাসিক হলগুলোতে সকল শিক্ষার্থী যেন আগের মতো খেতে পারেন, হলের ডাইনিং সিস্টেম যেন পুনরায় চালু করা হয়।
চবি ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনও অনেকে আছেন যারা স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগের আমলে সুবিধাভোগী ছিল, কিন্তু প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করে নি। অনেক শিক্ষক রয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় নি। ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মীরা অবাধে ঘুরাঘুরি করছে, অথচ প্রশাসনের ভ্রূক্ষেপ নেই।