চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হতে যাওয়া দুই প্রার্থীর শরীরে মাদকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। তাঁদের ডোপ টেস্টের ফলাফল পজিটিভ এসেছে। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের মাঝে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে বিরূপ প্রতিক্রিয়া। কতৃপক্ষ বলছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোন নিয়োগে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ফলাফল পজিটিভ আসলে কাউকেই নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ নেই।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষক হতে যাওয়া দুই প্রার্থীর শরীরে মাদকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। তাঁরা হলেন গোলাম রাব্বানী ও ড. ইমরুল আসাদ। গত সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে তাদের ডোপ টেস্ট করানো হয়। টেস্টের ফলাফল পজিটিভ এসেছে।
আজ বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চিফ মেডিকেল অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মোহাম্মদ আবু তৈয়ব।
তিনি বলেন, “শরীরে মাদকের উপস্থিতি আছে কি না সেটা প্রমাণের জন্য দুইজন শিক্ষক প্রার্থীর ডোপ টেস্ট করানো হয়েছে। গত ৪ আগস্ট গোলাম রাব্বানী ও ড. ইমরুল আসাদ নামে দুই প্রার্থীর ডোপ টেস্ট করানো হয়। এতে তাদের ফলাফল পজিটিভ এসেছে। আমরা সেখানে গাঁজা জাতীয় মাদকের উপস্থিতি পেয়েছি।”
এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের মাঝে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। চবির দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী ফারজনা শারমিন বলেন, “শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। আর শিক্ষকরা হলেন সেই মেরুদণ্ড গঠনের কান্ডারী। তারা যদি মাদকাসক্ত হয়ে থাকে তাহলে জাতি গঠনে তারা কিভাবে ভূমিকা রাখবে। তাছাড়া তাঁদের মাধ্যমে মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা তৈরি হবে বলে আমার মনে হয় না।”
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষক নিয়োগের লিখিত, প্রেজেন্টেশন ও মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এ ধাপগুলো অতিক্রম করার চূড়ান্ত পর্যায়ে গোলাম রাব্বানী ও ড. ইমরুল আসাদের ডোপ টেস্ট করালে ফলাফল পজিটিভ আসে
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ডোপ টেস্ট করানোর বিষয়টি পূর্বে কখনোই ছিল না। বর্তমান প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরকে ডোপ টেস্ট করানোর মাধ্যমে এই নিয়ম চালু করেছে। এই নিয়মের আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মকর্তা-কর্মচারী সবাই রয়েছেন। শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম প্রযোজ্য।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীর যে কোন নিয়োগে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যাদের ডোপ টেস্ট পজিটিভ যেখানে শিক্ষার্থীদের ডোপ টেস্ট করানো হয়, সেখানে শিক্ষক নিয়োগে ডোপ টেস্টে পজিটিভ আসলে কোনো ভাবে গ্রহণযোগ্য হবে না।
উল্লেখ্য,গত ২৮ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষক নিয়োগের লিখিত,প্রেজেন্টেশন ও মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।