চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) পাম বাগান সংলগ্ন মায়ালেক এলাকায় সর্বসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে হিল ভিউ এগ্রো এন্ড ডেইরি ফার্ম নামের ইজারাদার প্রতিষ্ঠান। এতে নিজ ক্যাম্পাসের একঅংশে ঢুকতে না পেরে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার (২০ জুন) কিছু শিক্ষার্থী মায়ালেক এলাকা ঘুরতে গেলে প্রবেশদ্বার বাঁশ নির্মিত গেট দ্বারা বন্ধ থাকায় বাধার সম্মুখীন হন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা। এবিষয় নিয়ে ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মায়া লেক এলাকার সামনের অংশ বাঁশ নির্মিত বেড়া-দ্বারা ঘেড়াও করা হয়েছে। এতে বহিরাগতদের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলে দাবি ইজারাদারের। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা চাইলেই ঢুকতে পারবেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন রিয়াদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো অংশ প্রশাসন চাইলে লিজ দিতে পারে, তবে দেখার বিষয় হলো সেখানে শিক্ষার্থীদের মুভমেন্ট ভায়োলেট হচ্ছে কিনা। আজকে ওনারা বাঁশের বেড়া দিয়েছে কালকে এখানে ইটের দেয়াল দিবে না তার কি নিশ্চয়তা আছে? আমরা এভাবেও দেখতে পারি এখান থেকে দখলদারিত্বের সূচনা হচ্ছে। তাই প্রশাসনের কাছে দাবি কোন স্থান লিজ দিয়ে নিরাপত্তার নামে শিক্ষার্থীদের মুভমেন্ট যেন ভায়োলেট করা না হয়।
তাহসান হাবিব নামের আরেক শিক্ষার্থী তার ফেসবুক পোস্টে লিখেন, এ ক্যাম্পাসের প্রতি ইঞ্চি জমি শিক্ষার্থীদের অধিকারভুক্ত!এ ক্যাম্পাসের ২৩০০ একর কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয় এটা শিক্ষার্থীদের। ইজারা বা লিজ এর নাম করে যদি কেউ মনে করে শিক্ষার্থীদের প্রবেশাধিকার হরণ করবে কিংবা বাপের ভিটা মনে করে দখলদারিত্ব কায়েম করবে তবে বোকার স্বর্গে বাস করছে। চবিয়ানরা নিজ যোগ্যতা বলে এখানে এসেছে এবং এর সৌন্দর্য উপভোগ করবে। কেউ এ অধিকার কেড়ে নিতে চাইলে চবিয়ানরা তা প্রতিরোধ করবে।
হিল ভিউ এগ্রো এন্ড ডেইরি ফার্মের মালিক মোঃ জামাল উদ্দিন বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমতি সাপেক্ষে আমাদের প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার স্বার্থে এখানে গেইটের ব্যবস্থা করেছি। তবে আমরা এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীকে ভিতরে প্রবেশের ক্ষেত্রে কোন বাধা দিচ্ছি না। শুধু বহিরাগতদের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করেছি। আমাদের ব্যানারে সর্বসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ লিখে ভুল করেছি আমরা এটা অতিসত্বর সংশোধন করবো।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য(প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন বলেন, আমিও ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে বিষয়টা দেখলাম। এটা খুব সম্ভবত আগের প্রশাসন লিজ দিয়েছে। এ বিষয়ে অবশ্যই রবিবারে খতিয়ে দেখবো। তাদের প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার মানে এই না যে তারা কোনো একটি অংশকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিচ্ছিন্ন
করে ফেলবে।