আজ বুধবার বেলা এগারোটায় ইডেন মহিলা কলেজ অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ স্কাউটসের আয়োজনে ‘জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান: অতীতের চেতনা, ভবিষ্যতের পথ নির্দেশ’ আলোচনা সভা এবং শহীদ স্কাউটস পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা স্মারক বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. খান মাইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. রফিকুল ইসলাম ও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব রেহেনা পারভীনসহ প্রমুখ।
এছাড়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ(১০) স্কাউটস পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
চৌধুরী রফিকুল আবরার জুলাই আন্দোলনে স্কাউটস শহীদদের স্মৃতিচারণ করে বলেন, শহীদরা অনেক গুণী ছিলেন। বাবা-মা অনেক কষ্ট এই বাচ্চাদেরকে গড়ে তুলেছিল। তাঁরা দেশের জন্য নিবেদিত প্রাণ। তাঁরা ভেবেছিল, আমরা এই দেশকে মুক্ত করে ছাড়বো এবং শহীদরা হার মানেননি।
তিনি বলেন, যখন গুলি চলছিল, তখনও স্কাউটসরা প্রাণের ভয় উপেক্ষা করে মানুষের সেবা দিয়েছে। আমরা স্কাউটসদের আত্মত্যাগের কথা শুনেছি এবং দেশের যেকোনো বিপদে এগিয়ে আসে তাঁরা।
শহীদ মীর মুগ্ধের ভাই মীর মাহফুজুর রহমান স্নিগ্ধ বলেন, আমি শহীদের পরিবারের সদস্য। যাদের পরিবারের কেউ শহীদ হয়েছেন, তাঁরাই এ ব্যথা বুঝতে পারেন। জুলাই আগস্টে নৃশংসভাবে হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে। শহীদের আসামিদের জামিন দেয়া হচ্ছে, আসামিরা ঘুরে বেড়াচ্ছে, এগুলো দেখে কষ্ট হয়। আরো কষ্ট হয় যখন শহীদ পরিবারের সদস্যদের রাস্তায় লাঠিচার্জ করা হয়। আমরা শহীদদের বিচার দেখতে চাই।
লালমনিরহাট থেকে থেকে আসেন শহীদ রাজিবুল করিমের মা মোসাম্মদ জান্নাতুল ফেরদৌস। তিনি বলেন, আমি দেখেছি, আমার শিশুটি বাসায় এক গ্লাস পানি ঢেলে খায় না। কিন্তু স্কাউটিংয়ের সময় মানুষের সেবায় এগিয়ে যেত এবং সেবা করেছে। আমার ছেলে বলতো, আমার কোনো পুরস্কার পেলে তোমাকে অনুষ্ঠানে নিয়ে যাবো। আমার ছেলে অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছিল। আমার ছেলের কথা মনে পড়লে কান্না আসে। আমার ছেলে ক্লাস ফাইভ এবং এইটে বৃত্তি পেয়েছিল। দশম শ্রেণিতে এ প্লাস পেয়েছিল। আমার মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল। এসএইচসিতে সাতটি পরীক্ষা দিয়েছিল। রেজাল্টে দেখা গেছে, এই সাত সাবজেক্টে ৯০ এর উপরে মার্ক পেয়েছিল।কিন্তু সে রেজাল্ট সে গ্রহণ করতে পারে নি৷
তার কান্নাজড়িত কন্ঠের স্মৃতিমাখা কথাগুলোয় কেঁদেছেন সকলেই। যেন নিস্তব্ধতা নেমে এসেছিলো পুরো অডিটোরিয়াম জুড়ে।
রাজধানীর ফার্মগেটে শহীদ গোলাম নাফিজের বাবা গোলাম রহমান বলেন, সরকার সংস্কার আর নির্বাচন করুক। কিছু বলার নাই, আমরা চাই বিচার। বিচারের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হচ্ছে। আমরা কী পেয়েছি? রক্তের বিনিময়ে দেশ পরিবর্তন হয়েছে।তবে আসলেই কি পরিবর্তন হয়েছে?
এ নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল আবরার বলেছেন, মন্ত্রণালয়ে অনেক কিছু মোকাবিলা করতে হচ্ছে। আমরা যেভাবে গুছিয়ে সবকিছু করতে চাচ্ছি, সেভাবে করা যাচ্ছে না। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। এখনো বড় রকমের অস্থিরতা রয়েছে।