চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায় ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জবাবদিহিতা চেয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা।
বুধবার (২৭ আগস্ট) দুপুর ১২টায় চবির প্রশাসনিক ভবনের সামনে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ সমাবেশ করে।
সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায় ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জবাবদিহিতা চেয়ে বিভিন্ন দাবি জানায় সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ। চবি শিক্ষার্থীদের শতভাগ আবাসন নিশ্চিত করা, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের আবাসন ভাতা প্রদান, চাকসুর তফসিল, শিক্ষক নিয়োগে শুদ্ধতা, ফ্যাসিবাদের দোসরদের বিচার করা, গবেষণায় শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত সুযোগ করে দেওয়া, লাইব্রেরি সেবার মান উন্নয়ন করা, ক্যাম্পাসে সুলভ মূল্যে নিরবিচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা চালু করা, শাটল ট্রেনের ভোগান্তি কমানো, শহরগামী পর্যাপ্ত বাসের ব্যবস্থা করা, ই-কারের সহজলভ্যতা ও ভাড়া কমানো, ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবার উন্নতি করা, পরীক্ষার ফল প্রকাশে আধুনিকায়ন করা, মেডিকেল সেবার মান উন্নয়ন করা, এম্বুল্যান্সের সংখ্যা বাড়ানো, আবাসিক হলের ডাইনিং এ পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর খাবার পরিবেশন করা ও ক্যাম্পাসে টিএসসি নির্মাণ করা ইত্যাদি দাবি জানায় সংগঠনটি।
বিক্ষোভ সমাবেশে শাখা ছাত্রদলের বিভিন্ন স্তরের প্রায় দুই শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। এসময় উপস্থিত ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ চবি প্রক্টর ও রেজিস্ট্রারের পদত্যাগ দাবি করেন।
চবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, “বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার থাকলেও এই ক্যাম্পাসে সেটা সম্ভব হয়নি। একটা বিশেষ গোষ্ঠী চাকসু নির্বাচন আয়োজন বানচাল করতে চায়। চাকসু নির্বাচনের আয়োজন নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে। আমরা সকল ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিয়ে চাকসু নির্বাচন করতে চাই। প্রশাসনের অনেক কর্তাব্যক্তি তাদের নিরপেক্ষতা হারিয়েছে বলে আমরা মনে করি, আমরা দলকানা ব্যক্তিদের পদত্যাগ চাই।”
চবি ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় বলেন, “এই ক্যাম্পাসে এখনও ফ্যাসিস্টের দোসর ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মীরা অবাধে ঘুরাঘুরি করছে। এই প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে না। এই পরিস্থিতিতে কতটুকু স্বচ্ছতা ও সুষ্ঠুভাবে এই চাকসু নির্বাচন আয়োজন করা যাবে, সেটা নিয়ে আমরা সন্দিহান। তাছাড়া এই প্রশাসনের প্রক্টর ও রেজিস্ট্রার তাদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে পারেনি। তাদের নৈতিক অবস্থান ক্ষুন্ন হয়েছে।
চবি ছাত্রদলের সভাপতি আলউদ্দিন মহসীন বলেন, “প্রশাসনের কাছে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দাবি নিয়ে গেলে প্রশাসন আশ্বস্ত করলেও যথাযথ পদক্ষেপ নেয় না। আমরা চাকসু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছি না। তবে নির্বাচন অবশ্যই সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হতে হবে।”