ঐতিহাসিক জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের উদ্যোগে সেমিনার ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) বিকাল চারটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন সাইন্স অডিটোরিয়ামে সেমিনার আয়োজন করা হয়।
সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চবির রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও অতীশ দীপঙ্কর হলের প্রভোস্ট এ জি এম নিয়াজ উদ্দিন। তিনি “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন এবং বর্তমান প্রাসঙ্গিকতা” শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এসময় তিনি বলেন, “শহীদ জিয়াউর রহমান শুধু মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক, সেক্টর কমান্ডার ছিলেন না, তিনি মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনের লড়াকু সৈনিক । যিনি মাত্র ৪৫ বছর বেঁচেছিলেন এবং মাত্র পাঁচ বছর রাষ্ট্রে সরকারের দায়িত্ব পালন করেন। এই অল্প সময়েই তিনি ইতিহাসের সব জায়গায় স্মরণীয় হয়ে আছেন। রাজনীতি, অর্থনীতি, সরকার নীতি এমন কোনো বিষয় নেই যেখানে তিনি প্রাসঙ্গিক নয়।”
সেমিনারে “বাংলাদেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকা” শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চবির জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ড. মাসুদুল আজাদ চৌধুরী। এসময় তিনি বলেন, “এরশাদের পতনের পর ১৯৯১ সালের ২৭ ফ্রেব্রুয়ারী এক সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের আয়োজন করা হয়। যা ছিল ডিজিটাল, পরিমাপযোগ্য, নিরপেক্ষ। যার মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়া প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হয়ে এক আপোসহীন নেতৃত্ব গড়ে তুলেন। ২০১৮ সালের ফ্রেব্রুয়ারীতে খালেদা জিয়াকে জিয়া অরফানেজ দুর্নীতির মিথ্যা ও সাজানো মামলায় কারাবরণ করতে হয়। এই কারাবরণ তাঁকে রাজনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী করে তোলে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ইনস্টিটিউট অব মেরিন সাইন্সেস এর অধ্যাপক ড. মো: শফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এস.এম নসরুল কদির।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক এস.এম. নসরুল কদির বলেন, “ফ্যাসিস্টদের অনেক আচরণ এখন অনেক পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। তবে তাদের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিতে হলে আমাদের তরুণ সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির আদর্শকে ধারণ করে নতুনভাবে পথ চলতে হবে। মাথার কাজ মাথা দিয়ে করতে হয় আর লাঠির কাজ লাঠি দিয়ে করতে হয়। তাই আমাদের বেশিবেশি পড়াশোনা করা উচিত।”
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চবি নৃবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী পরামর্শ ও নির্দেশনা কেন্দ্রের পরিচালক ড. আনোয়ার হোসেন, ফিশারিজ বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আশরাফুল আজম খান, ফাইন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সালেহ্ জহুর, ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. জহুরুল আলম, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন, আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মু. জাফর উল্লাহ তালুকদার, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৈয়ব চৌধুরী, চাকসু কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান চৌধুরী, জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক আল ফোরকান।