চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) গঠনতন্ত্র সংশোধনপূর্বক দ্রুত তফসিল ঘোষণার দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
সোমবার (২৫ আগস্ট) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়াহ্ইয়া আখতার বরাবর স্মারকলিপি দেয় চবি ছাত্রদল।
শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আলউদ্দিন মহসীন ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে বলা হয়, “জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের পর শিক্ষার্থীদের অন্যতম দাবি ছিল চাকসু নির্বাচন, যা নানা কারণে বিগত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে। তবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে চাকসু নির্বাচনের প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
কিন্তু দুঃখজনকভাবে এখন পর্যন্ত প্রশাসন কালক্ষেপণ করে তফসিল ঘোষণা করতে পারেনি, যা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। এছাড়া সম্প্রতি প্রকাশিত চাকসুর গঠনতন্ত্রে কিছু অসঙ্গতি, অস্পষ্টতা, এমফিল-পিএইচডির সংযুক্তি এবং নারী শিক্ষার্থীদের প্রতি বৈষম্যমূলক ধারা অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় শিক্ষার্থীরা উদ্বিগ্ন ও ক্ষুব্ধ। প্রশাসন শিক্ষার্থীদের মতামত উপেক্ষা করে একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের অধিকার ও গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী।”
এতে আরও বলা হয়, “একটি কার্যকর চাকসু গঠনের স্বার্থে সকল অংশীজন ও শিক্ষার্থীদের মতামত অনুযায়ী নির্বাচনের প্রার্থীতার ক্ষেত্রে কেবল স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদেরই রাখতে হবে। বয়সসীমা ৩০ বছর প্রত্যাহার করে এমফিল-পিএইচডি শিক্ষার্থীদের প্রার্থিতার সুযোগ বন্ধ করতে হবে। অবিলম্বে দপ্তর সম্পাদক ও সহ-দপ্তর সম্পাদক পদ নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে।”
চবি প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে এতে বলা হয়, “বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও রেজিস্ট্রারের কর্মকাণ্ডে দলীয় পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ পরিলক্ষিত হচ্ছে, যা অত্যন্ত হতাশাজনক। বর্তমান চবি প্রশাসন দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে প্রক্টর মহোদয় একটি ছাত্র সংগঠনকে বিশেষ সুবিধা প্রদান করে অন্যদের সঙ্গে বিমাতাসুলভ আচরণ করছেন। ছাত্র প্রতিনিধির নামে নিজের আশীর্বাদপুষ্ট ছাত্র সংগঠনের নেতাদের বিভিন্ন জায়গায় দায়িত্ব দিয়েছেন। তাছাড়া নানা সময়ে তিনি ঐ ছাত্র সংগঠনের মুখপাত্রের মতো আচরণ করেছেন। গত কয়েক মাসে তিনি তার পছন্দের ছাত্র সংগঠনের হয়ে নানা স্থানে ক্যাম্পেইন চালিয়েছেন।”
চবি রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে এতে বলা হয়, “বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারও তার কর্মকাণ্ডে দলীয় পক্ষপাতমূলক আচরণ ফুটিয়ে তুলেছেন। প্রক্টর মহোদয়ের নারী বিদ্বেষী মনোভাব, বিতর্কিত ভূমিকা এবং প্রকাশ্য দলবাজি একটি সুষ্ঠু চাকসু নির্বাচনের পথে বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে। তাই চবি ছাত্রদল মনে করে, শিক্ষার্থীদের কাছে প্রশাসনের বিশ্বাসযোগ্যতা ও আস্থা ফিরিয়ে আনার স্বার্থে এবং সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ চাকসু নির্বাচনের লক্ষ্যে প্রক্টর ও রেজিস্ট্রারকে নির্বাচনী কার্যক্রমের সকল দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া প্রয়োজন।”
উল্লিখিত বিষয়গুলো বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য দাবি জানায় সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ। এতে আরও বলা হয়, “আমাদের প্রত্যাশা থাকবে-একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য চাকসু নির্বাচনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং গঠনতন্ত্রে শিক্ষার্থীদের স্বার্থ যথাযথভাবে প্রতিফলিত হবে।”