নেটওয়ার্ক ফর ইন্টারন্যাশনাল ল’ স্টুডেন্টস (নিলস) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় চ্যাপ্টার এর উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছে ‘নিলস সিউ পাবলিক স্পিকিং কম্পিটিশন ২০২৫’।
শনিবার (২৩ আগস্ট) চবির আইন অনুষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় এই প্রতিযোগিতা।
তিন পর্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার, বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, সৈয়দ মিসবাহুল আনোয়ার, চবির ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও সাবেক বিভাগীয় প্রধান কাজী রবিউল ইসলাম, চবির আইন বিভাগের সাবেক ডিন অধ্যাপক এ বি এম আবু নোমান, চবির আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হোসাইন মোহাম্মদ ইউনুস সিরাজী।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নড়াইলের ডিস্ট্রিক্ট জাজ এলিনা আক্তার বলেন, “আজকের দিনে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতা আইন অনুষদের শিক্ষার্থীদের পাবলিক স্পিকিং এর দক্ষতা উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। আইন পেশায় একটা গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা হলো সবাইকে কথার যুক্তি দিয়ে নিজের অবস্থানকে তুলে ধরা। আইনের শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জাজ মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, “একজন আইনজীবী হওয়ার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো পাবলিক স্পিকিং। এর সঙ্গে প্রয়োজন মানুষকে কনভিন্স করা বা রাজি করানোর দক্ষতা এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য প্রয়োজন উপস্থিত বুদ্ধি। এই তিনটি দক্ষতার মাধ্যমে একজন আইনজীবী নিজের অবস্থানকে পরিপূর্ণ করতে পারে। একজন যোগ্য ও দক্ষ আইনজীবী হওয়ার জন্য ৫টি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে নিজের মধ্যে ধারণ করতে হবে। এগুলো হলো এসপিরেশন (উচ্চাকাঙ্ক্ষা), ইনপিরেশন (প্রেরণা), ডিটারমিননেশন (দৃঢ়সংকল্প), কোলাবোরেশান (সহযোগিতা) ও শেয়ার (বিনিময়)। এই পাঁচটি বিষয়ের চর্চা আইনের শিক্ষার্থীদের হিসেবে সকলের মনে রাখতে হবে।”
অনুষ্ঠানে আইন অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক এ বি এম আবু নোমান বলেন, “NILS এর এই প্রতিযোগিতা আয়োজনের মাধ্যমে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাবলিক স্পিকিংসহ বিভিন্ন দক্ষতা উন্নয়ন কাজ করছে। দেশের বাহিরেও NILS এর নেতৃত্ব লক্ষ্যনীয়। আইন অনুষদের যখন যাত্রা শুরু হয়, তখন আসলে ক্লাস নেওয়ার তেমন যথাযথ ব্যবস্থা ছিল না। অথচ আজ সেই বিভাগের শিক্ষার্থীরা দেশবিদেশে দক্ষতার সঙ্গে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছে। আমরা সংকীর্ণতার প্রাচীরকে ভেঙে দেশের মাটিতে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় কাজ করবো। আইনের শিক্ষার্থী হিসেবে তোমাদেরকে যুক্তি, তথ্য ও দক্ষতার মাধ্যমে সবজায়গায় ন্যায্য অধিকার ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে হবে।”
প্রতিযোগিতায় সেরা বক্তাদের ৫ ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দেওয়া হয়। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বেস্ট স্পিকার, আউটস্ট্যান্ডিং স্পিকার, মোস্ট প্রমিসিং স্পিকার, স্পেশ্যাল মেনশন-১ ও স্পেশ্যাল মেনশন-২। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদেরকে সম্মাননা সনদ প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানের ইভেন্ট পার্টনার হিসেবে ছিল দ্য লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল, ডিস্ট্রিক্ট ৩১৫ বি-৪, বাংলাদেশ’। এছাড়া মিডিয়া পার্টনার হিসেবে ছিল দৈনিক খবরের কাগজ, দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডান্ড, দৈনিক কালবেলা ও দেশ বর্তমান।