বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) জন্য মোট ১৩১ কোটি ৯৭ লাখ টাকার বাজেট অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে ইউজিসি দেবে ১২২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয় থেকে আসবে ৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা।
গবেষণা ও উদ্ভাবন খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে মাত্র ৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, যা মোট বাজেটের ৩.২৮ শতাংশ।প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের অগ্রগতির লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এই বরাদ্দকে ‘অপ্রতুল’ বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বাজেটের সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখা হয়েছে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও পেনশন খাতে। এ খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৩ কোটি ৩৭ লাখ টাকা, যা মোট বাজেটের ৬৩.১৭ শতাংশ। এরমধ্যে বেতন-ভাতা বাবদ ৭৮ কোটি ৪৩ লাখ এবং পেনশন ও গ্র্যাচুইটি বাবদ ৪ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।স্বাস্থ্যসেবায় বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৬ লাখ টাকা, যা মোট বাজেটের ০.০৪৫ শতাংশ।গবেষণা ও উদ্ভাবন খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে মাত্র ৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, যা মোট বাজেটের ৩.২৮ শতাংশ।
যানবাহন খাতে বরাদ্দ ৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা, পণ্য ও সেবা (সাধারণ ও রক্ষণাবেক্ষণ) খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪ কোটি ৫ লাখ টাকা, যন্ত্রপাতি অনুদান খাতে বরাদ্দ রয়েছে ২ কোটি ৫২ লাখ টাকা, যানবাহন বাবদ ৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অনুদান বাবদ ৯০ লাখ টাকা এবং অন্যান্য মূলধন অনুদান বাবদ বরাদ্দ রয়েছে ৭০ লাখ টাকা। এছাড়াও অন্যান্য অনুদান বাবদ বরাদ্দ রয়েছে ১ কোটি ৬৪ লাখ টাকা।উল্লেখ্য, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট অনুযায়ী হাবিপ্রবির মোট বাজেট ছিল ১৩৪ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। চলতি বছরের বাজেট তার তুলনায় প্রায় ২ কোটি ৮৮ লাখ টাকা কম।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বলেন,আমরা যেহেতু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছি, এখানে গবেষণা ও উদ্ভাবনকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। কিন্তু মোট বাজেটের মাত্র ৩.২৮ শতাংশ গবেষণার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা বাস্তবে খুবই অপ্রতুল। ল্যাবরেটরি হালনাগাদ, নতুন যন্ত্রপাতি সংগ্রহ, মানসম্পন্ন গবেষণা পরিচালনা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে আরও বড় অঙ্কের অর্থ প্রয়োজন। এত সীমিত বরাদ্দে আমাদের গবেষণার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলনা করার মতো হবে না। ফলে একদিকে শিক্ষার্থীদের গবেষণায় আগ্রহ কমে যাবে, অন্যদিকে দেশও প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়বে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর কবির বলেন, ‘আমরা বাজেট যেভাবে যেমন বাজেট চাই সে রকম আসলে পাই না। এ বছর আমরা বাজেট চেয়েছিলাম প্রায় ১৬৯ কোটি টাকার এর প্রেক্ষিতে ইউজিসি থেকে পেয়েছি ১২২ কোটি টাকার বাজেট। তবে আমরা আশাবাদী সামনে সংশোধিত বাজেটে এটা আরো বাড়বে। বাজেট বরাদ্দের ক্ষেত্রে ইউজিসির নির্দেশনা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য বিবেচনায় নেওয়া হয়।’