শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সমস্যা নিরসনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) চালু হলো ইলেকট্রনিক কার।
মঙ্গলবার(১৯আগস্ট) সকাল ১০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট মোড়ে ই-কার চলাচলের উদ্বোধন করেন চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড.ইয়াহ্ইয়া আখতার।
দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যাতায়াত ভোগান্তিতে ছিল।বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়তন ২৩০০ একর হওয়ায় আবাসিক হল থেকে ক্লাসে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভোগান্তিতে ভুগছিল শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসজুড়ে চক্রাকার বাস চালু করার দাবি জানালে চবি প্রশাসন সেটা কার্যকর করে।কিন্তু কিছুদিন যাওয়ার পর চক্রাকার বাস বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে কর্তৃপক্ষ ই-কার চালু করার ঘোষণা দেয়। চলতি বছরের ১৩ই মে পরীক্ষামূলক ভাবে দুইটি ই-কার চালু করা হয়।
ক্যাম্পাস জুড়ে চালু হওয়া প্রতিটি ই-কারের ধারণক্ষমতা ড্রাইবারসহ ১৪ জন। ই-কার গুলো পরিবেশবান্ধব। কারণ এসব ই-কারে কোনো জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার করা হয়না। ই-কারগুলো ইলেকট্রিক চার্জের মাধ্যমে সচল রাখা হয়।
ই-কার চালুর পূর্বে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের মাধ্যম ছিল রিক্সা ও সিএনজি। যাতে শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ভাড়া বহন করতে হতো। প্রতিটি রিক্সার ভাড়া সর্বনিম্ন ১৫ টাকা ও সর্বোচ্চ ৪০ টাকা এবং সিএনজিতে জনপ্রতি ভাড়া সর্বনিম্ন ৭ টাকা ও সর্বোচ্চ ১২ টাকা। যা শিক্ষার্থীদের বহন করা কষ্টসাধ্য ছিল। তবে ই-কার চালু হওয়ায় শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ভাড়া বহন করতে হবে না। ই-কারে দূরত্ব বিবেচনায় জনপ্রতি ভাড়া সর্বনিম্ন ৫ টাকা ও সর্বোচ্চ ২০ টাকা।
ক্যাম্পাসজুড়ে ই-কার চালু হওয়ায় খুশি সাধারণ শিক্ষার্থীরা। উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে লোকপ্রশাসন বিভাগের ২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান ইমন বলেন, “ আমরা ই-কার পেয়ে খুবই খুশি।তবে প্রশাসন যে পরিমাণ ভাড়া নির্ধারণ করেছে তা অযৌক্তিক। প্রশাসনের উচিত এটি পুনরায় বিবেচনা করা। এছাড়া যাতায়াত ভোগান্তি দূর করতে আরো ১০টির মতো ই-কার রাখা উচিৎ। ”
জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় পাহাড়ি এলাকায় হওয়ায় এবং ক্যাম্পাসের বিশাল আয়তনের কারণে এখানে আবাসিক হল থেকে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত করা বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে যায়। তাছাড়া যাতায়াত ব্যবস্থার সংকট শুরু থেকেই ছিল। আমরা শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সুবিধা বাড়াতে ছোট্ট উদ্যোগ হিসেবে ই-কার চালু করেছি।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে ১০ টি ই-কার চালু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও চালু করা হবে। প্রতিদিন রাত ১০ টা পর্যন্ত ই-কার সেবা চালু থাকবে।
যেহেতু শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে আমরা ই-কার চালু করা হয়েছে, তাই ই-কারের নিরাপত্তা ও যত্নের প্রতি শিক্ষার্থীদেরকেও সচেতন থাকতে হবে। তবে কতৃপক্ষ ই-কারের নিরাপত্তার বিষয়টি দেখছে। শুরুর দিকে, ক্যাম্পাসে থাকা রিকশা চালক ও সিএনজি চালকদের মধ্যে থেকে একটা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া আসবে, সেটা আমরা জানি। কেননা তারা দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসে একচেটিয়াভাবে রিকসা বা সিএনজি চালিয়েছ। ই-কারের কারণে তাদের রোজগারে কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। আর সব কিছুতে তারা ধীরে ধীরে সহনশীল হয়ে যাবে।”