পূর্বনির্ধারিত ১১ সেপ্টেম্বরেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন (জাকসু) আয়োজনের দাবি জানিয়েছে শাখা ছাত্র ইউনিয়ন। পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর হামলাকারীদের চলমান বিচারকাজও যথাসময়ে সমাপ্তির দাবি জানিয়েছে তারা।
সোমবার (৩ আগষ্ট) বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের (একাংশ) দপ্তর সম্পাদক মো. রেদওয়ান শিকদার সাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “আমরা, গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ঘোষিত জাকসু নির্বাচন বারংবার পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে সংঘটিত বর্বর হামলার বিচার সম্পন্ন না হওয়ায় নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। আমরা মনে করি, এ যুক্তি একপেশে, অযৌক্তিক এবং প্রশাসনের দায়িত্ব এড়ানোর একটি কৌশল মাত্র।”
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, “জুলাই হামলার বিচার ও জাকসু নির্বাচন—এই দুটি প্রক্রিয়া সমান্তরালভাবে চলতে পারে এবং চলা উচিত। বরং এই জাকসু নির্বাচন হতে পারত বিচার ও জবাবদিহিতার দাবিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার এক ঐতিহাসিক সুযোগ। অথচ প্রশাসন বরাবরই বিচারের দায়কে সামনে এনে গণতান্ত্রিক কাঠামো গঠনের কাজকে বিলম্বিত করছে, যা স্পষ্টভাবে একটি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক টালবাহানা।
এছাড়াও বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “বিচার না হওয়ার দায় শিক্ষার্থীদের নয়, বরং প্রশাসনের। গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে একাধিকবার সময় চাওয়ার পরও বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া প্রশাসনের ব্যর্থতার দৃষ্টান্ত। এর দায়ভার এড়িয়ে বার বার নির্বাচনকে বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করানোর এই প্রবণতা অত্যন্ত দুরভিসন্ধিমূলক।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মতো একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া বারবার পেছানো হচ্ছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক কাঠামো ও স্বশাসনকে ভেঙে দেওয়ার নামান্তর। বিচার এবং নির্বাচন—উভয়ের জন্য আলাদা প্রক্রিয়া ও কাঠামো রয়েছে। প্রশাসন যদি চায়, তাহলে উভয় কাজ একসাথে সম্পন্ন করা সম্ভব বলেও মনে করেন তারা।
এ সম্পর্কে এক যৌথ বিবৃতিতে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের (একাংশ) সভাপতি অদ্রি অংকুর এবং সাধারণ সম্পাদক ফাইজান আহমেদ অর্ক বলেন—”জাকসু নির্বাচন পেছানোর এই ধারাবাহিকতা প্রমাণ করে যে, প্রশাসনের সদিচ্ছার ঘাটতি আছে। বারবার নির্বাচন স্থগিত রেখে তারা মূলত ছাত্রদের প্রতিনিধিত্বহীন করে রাখতে চায়। আমরা মনে করি, বিচার ও নির্বাচন—দুটিই শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকার এবং প্রশাসনের সাংবিধানিক দায়িত্ব। একটিকে আরেকটির বিপরীতে দাঁড় করানো চরম অপারগতা ও রাজনৈতিক অদূরদর্শিতার বহিঃপ্রকাশ।”
তারা আরও বলেন, “আমাদের স্পষ্ট দাবি, আগামী ১১ সেপ্টেম্বরের পূর্বঘোষিত তারিখ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে এবং একই সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত তারিখের মধ্যেই চলমান বিচার প্রক্রিয়াও স্বচ্ছভাবে শেষ করতে হবে। অন্যথায়, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ ছাত্রদের নিয়ে বৃহত্তর গণতান্ত্রিক আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে।”