চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনের লক্ষ্যে নতুন গঠনতন্ত্র অনুমোদন করেছে কর্তৃপক্ষ। এতে নতুন করে ১২ টি পদ যুক্ত করা হয়েছে। একইসঙ্গে নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে ভোটার ও প্রার্থিতার সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩০ বছর রাখা হয়েছে।
শুক্রবার (১ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৫৯ তম সিন্ডিকেট সভায় এই গঠনতন্ত্র অনুমোদন দেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড.মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
নতুন গঠনতন্ত্রে চাকসু নির্বাহী কমিটিতে মোট ২৮টি পদ রাখা হয়েছে। এরমধ্যে ৫টি নির্বাহী সদস্য পদ। আগের গঠনতন্ত্রেও পদসংখ্যা ছিল ২৮টি। তবে সেখানে নির্বাহী সদস্য পদ ছিল ১০ টি।
গঠনতন্ত্রে নতুন যে ১২টি পদ যুক্ত করা হয়েছে তা হলো গবেষণা ও উদ্ভাবন বিষয়ক সম্পাদক ও সহকারী সম্পাদক; বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ও সহকারী সম্পাদক ; স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ও সহকারী সম্পাদক; যোগাযোগ ও আবাসন বিষয়ক সম্পাদক ও সহকারী সম্পাদক ; দপ্তর সম্পাদক ও সহকারী সম্পাদক (পুরুষদের জন্য সংরক্ষিত); ছাত্রীকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ও সহকারী সম্পাদক (নারী শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত)।
এছাড়া পুরনো ‘সমাজসেবা সস্পাদক ও উপ সমাজসেবা সম্পাদক পদ দুটি রূপান্তর করে সমাজসেবা,পরিবেশ ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক এবং সহ-সমাজসেবা,পরিবেশ ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক করা হয়েছে।
ভোটার ও প্রার্থিতার যোগ্যতা:
নতুন গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কেবল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত ও আবাসিক হলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা ভোটার ও প্রার্থী হতে পারবেন। যারা স্নাতক, মাস্টার্স, এমফিল অথবা পিএইচডি কোর্সে অধ্যায়নরত এবং আবাসিক হলের সঙ্গে যুক্ত, তারাই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। এক্ষেত্রে বয়সসীমা সর্বোচ্চ ৩০ বছর।
জানতে চাইলে চাকসু নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মনির উদ্দিন বলেন ‘চাকসুর গঠনতন্ত্র আমি এখনো হাতে পাইনি।রোববার এটি হাতে পেলে সভা ডেকে যত দ্রুত সম্ভব তফসিল ঘোষণা করা হবে।’
উল্লেখ্য, চাকসু প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬৬ সালে। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৬ বার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯০ সালের ফেব্রুয়ারীতে। ওই বছরের ২২ ডিসেম্বর ছাত্রনেতা ফারুকুজ্জামান খুন হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চাকসুর কার্যক্রম বন্ধ করে দেন।