রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন আবাসিক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে ২০১৮-১৯ সেশনের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী নয়নমণি, ফারজানা ও টুকটুকির বিরুদ্ধে। এরমধ্যে নয়নমণি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাথে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার (১আগস্ট) সকালে কলেজের হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রাঃ) ছাত্রীনিবাসের এক সময়ের অফিস সহকারী স্মৃতি ইসলামের সিলগালা করা রুমের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার সময়। এ সময় ইডেন কলেজ সাংবাদিক সমিতির সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভুক্তভোগী স্মৃতি ইসলামের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার জন্য ফেসবুক লাইভে যুক্ত হতে চাইলে নয়নমণিসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী তাদের বাধা দেয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সূত্রমতে, স্মৃতি ইসলাম দীর্ঘ ১৭ বছর আয়েশা হলের অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। প্রায় দুই মাস আগে একটি অভিযোগের ভিত্তিতে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। অভিযোগ ওঠার সময় তিনি ছুটিতে ছিলেন এবং পরে হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। তার রুম খালি করার জন্য সিলগালা করে রাখা হয়। ১ আগস্ট দুপুর ১২টায় কলেজ প্রশাসনের ফোন পেয়ে তিনি তার মালামাল নিতে আসেন।
সাংবাদিকদের বাধা দেওয়ার বিষয়ে সাংবাদিক সমিতির সদস্য সচিব তানজিলা আক্তার মাসুমা বলেন,’আমরা লাইভে স্মৃতি আপার বক্তব্য নিতে গেলে নয়ন মনি এসে বাধা দেয় এবং লাইভটি ডিলিট করতে চাপ সৃষ্টি করে। তার আচরণ আমাদের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ।’
বিষয়ে নয়নমণির কাছে জানতে চাইলে তিনি ক্যাম্পাস পোস্ট ২৪ কে বলেন,’আমি বাধা দিইনি, শুধু বলেছি হুটহাট লাইভে যাওয়া যায় না। উনি (স্মৃতি ইসলাম) যদি মিথ্যা বলেন, সেটা তো যাচাই না করেই লাইভে প্রচার করা ঠিক না। তাই ডিলিট করতে বলেছিলাম।’
ঘটনাস্থলে ইডেন কলেজের শৃঙ্খলা কমিটি, হল ভিজিলেন্স টিম এবং হল সুপার উপস্থিত থাকলেও নয়নমণির এমন আচরণের কোনো প্রতিবাদ জানাননি তারা। বরং অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষক মোস্তারি সালেহীন সাংবাদিক সদস্যসচিবের ফোন থেকে অডিও রেকর্ড ডিলিট করতে বাধ্য করেন। পরে ফোন করে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অডিও ডিলিটের বিষয়টি অন্য প্রসঙ্গ ছিল। অনুমতি ছাড়া রেকর্ড করা যায় না।’ এরপর বিস্তারিত কিছু না জানিয়ে সাংবাদিককে ক্যাম্পাসে আসতে বলে কল কেটে দেন।
স্মতি ইসলামের বিরুদ্ধে আগে থেকেই ছাত্রলীগবিরোধী অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ ছিল বলে দাবি করেন কয়েকজন শিক্ষার্থী। তারা জানান, নয়নমণি একসময় ছাত্রলীগ নেত্রীদের ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং তাদের প্রোগ্রামে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতেন।
সাংবাদিকদের কাজ করতে বাধা, লাইভ ডিলিটের চাপ, এবং শিক্ষকের পক্ষ থেকে ফোন কেড়ে নেওয়ার ঘটনায় ইডেন কলেজের শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক মহলে ব্যাপারে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে একজন শিক্ষার্থী কীভাবে এতটা প্রভাবশালী হয়ে উঠল, যার সামনে প্রশাসনও নীরব থাকে?