ইডেন মহিলা কলেজের সকল সেশন ও বিভাগের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ৪ দফা দাবি নিয়ে ১৬ জুলাই(বুধবার) কলেজ অধ্যক্ষ বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা তাদের এই দাবিগুলোর মাধ্যমে পরীক্ষার কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, সময়ানুবর্তিতা ও নিজেদের ক্যারিয়ার উন্নয়নের পথ সুগম করার আহ্বান জানান।
তাদের দাবিগুলো ছিলো-
১.ইয়ার ফাইনাল পরীক্ষা নিজ নিজ ক্যাম্পাসে নিতে হবে।
২.প্রশ্নপত্র তৈরি ও মূল্যায়নের দায়িত্ব বিভাগীয় শিক্ষকদের হাতে রাখতে হবে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে নয়।
৩.পরীক্ষা শেষ হওয়ার সর্বোচ্চ দুই মাসের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ করতে হবে।
৪.নন প্রমোটেড শিক্ষার্থীদের জন্য দ্রুত রিটেক নেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
এ নিয়ে ইডেন কলেজ শিক্ষার্থী সামিয়া জামান মিহিকা বলেন,আমরা এখন ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধানে আছি। তাই আমরা চাই ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্বর্তী প্রশাসনের মাধ্যমে একাডেমিক জটিলতার সুষ্ঠু এক সমাধান আসুক। আমাদের যেন ইয়ার লস না হয় তার প্রক্ষিতে দ্রুত ফলাফল প্রকাশ ও নন প্রমোটেড শিক্ষার্থীদের রিটেক এর ব্যবস্থা চাই।
তিনি অন্য দাবির বিষয়েও বলেন, আমাদের অন্য কলেজে গিয়ে ফাইনাল পরীক্ষাগুলো দেয়া হয় যা খুবই অযৌক্তিক। আমাদের সাত কলেজের যার যার ক্যাম্পাসে পরীক্ষা হলেই ভালো হবে বলে মনে করছি এবং এটাই হওয়া উচিত।
এছাড়া তিনি প্রশ্নপত্র তৈরি ও খাতা মূল্যায়নের ব্যাপারে বলেন,আমরা তো এখন ঢাবির আন্ডারে নেই তো আমাদের প্রশ্ন তৈরি ও খাতা মূল্যায়নের দায়িত্ব বিভাগীয় শিক্ষকদের নিকট থাকলেই সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত হবে। বিগত দিনগুলোয় ঢাবির হাতে প্রশ্ন প্রণয়নের দায়িত্ব থাকায় এবং কিছু খাতা তারা দেখত ফলে গণহারে ও ফেল দেয়ার সংস্কৃতি আমরা দেখেছি। এই কালচার, শিক্ষার্থীদের কষ্ট ব্যাহত করার , শিক্ষা সিন্ডিকেট ভাঙার জন্য আমরা এটা চাই।তারা দেখা যেত, বছর বছর ফেল করিয়ে ফরম ফিল আপ করাতো, এগুলো হত। তো আমাদের সব মিলিয়ে দাবি হলো আমরা আমাদের সমস্যাগুলোর যৌক্তিক এক সমাধান চাই।
শিক্ষার্থীদের এই দাবি সম্পর্কে অধ্যক্ষ ড. শামছুন নাহার জানান, তিনি দাবিগুলো পর্যালোচনা করছেন এবং এ বিষয় প্রস্তাবিত ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়(সাত কলেজ) অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন সমন্বিত একটি সিদ্ধান্ত ও রূপরেখা দিবেন বলেছেন।
তিনি আরও বলেন,যেহেতু সাত কলেজ (প্রস্তাবিত ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়) এর মাননীয় অন্তর্বর্তী প্রশাসক এ কে এম ইলিয়াস স্যার শারীরিক ভাবে অসুস্থ তাই তার সুস্থ হয়ে কর্মদিবসে ফেরা পর্যন্ত অন্যান্য কলেজের অধ্যক্ষ এবং নীতিনির্ধারকরা অপেক্ষা করছেন।
পরিশেষে বলা যায়, উক্ত দাবির বিষয়গুলো নিয়ে এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে প্রশাসন একটি যৌক্তিক, বাস্তবসম্মত এবং ফলপ্রসু সিদ্ধান্ত নিবে বলে আশা করছেন ইডেন কলেজের শিক্ষার্থীরা।