“অনুরাগে রঙিন গোলাপ তুলে
ফুলদানি সাজিয়েছি প্রীতির ফুলে
আমাদের চোখে প্রেম সুরমা আঁকা
চতুর্দিকে খুশি আজ মেলেছে পাখা।”
দিনটি ২৮ জুন, বর্ষার ভ্যাপসা আবহাওয়ার মাঝেও হৃদয়ের গহীনে এক পশলা শীতল বৃষ্টির উপস্থিতি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সেদিন রঙিন গোলাপ ঘ্রাণে সুবাসিত হয়েছিলো শতাধিক শিক্ষার্থী। অগণিত প্রীতির ফুল সুরমা হয়ে মিলিত হয়েছে একটি ফুলদানিতে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার শতাধিক শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে আয়োজিত হয় “প্রীতিমিলনী’২০২৫”
নানাবিধ আয়োজনের সমারোহে প্রাণ ফিরে পেয়েছে ঢাবি ছাত্রীসংস্থার এবারের প্রীতিমিলনী। প্রভুর নামের গুণকীর্তনের ছন্দ এবং অপূর্ব সুরের মূর্ছনা বিমোহিত করেছিলো উপস্থিতিকে। এরপর শুভেচ্ছা বক্তব্য রেখেছেন ঢাবি ছাত্রসংস্থার সভানেত্রী সাবিকুন্নাহার তামান্না। সভানেত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে বর্তমান যুগে ইসলামের প্রতিষ্ঠা, প্রচার ও প্রসারে সংঘবদ্ধ হওয়ায় গুরুত্ব। পুরো বক্তব্য চলাকালীন চারদিকের পিনপতন নীরবতা মূলত উপস্থিতিদের উপলব্ধির প্রতিফলন হয়েছে বলেই বার্তা দেয়।

নানারকম বাহারি খাবারের প্রদর্শনী
প্রীতিমিলনীর সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্ব রান্না প্রদর্শনী। অংশগ্রহনকারীরা নানারকম খাবারের আইটেম রান্না করে নিয়ে এসেছেন। উপস্থিত বিচারকগণ খাবারের আইটেম দেখে তাদের অনুভূতির জানান দিচ্ছিলেন– চমৎকার এক হাস্যকোলাহল মুখর পরিবেশ বজায় ছিলো পুরো আয়োজন জুড়ে। ঠিক তখনই কবি বিলাল হোসাইন নুরীর কবিতা “সবুজ বিজয়ের স্বপ্ন” আবৃত্তি করেন ছাত্রীসংস্থার জনশক্তি সালসাবিল জান্নাত। এরপরে বর্তমান সময়ের আলোচিত বিষয় ডাকসু নিয়ে মতবিনিময় সভা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
“আমরা আলোর অভিযাত্রীক দল
কোনো বাঁধা শঙ্কায় নই দুর্বল,
সত্যের সংগ্রামে নিবেদিত প্রাণ
শাশ্বত বিজয়ের পথে অবিচল।”
সম্মিলিত কণ্ঠে এই গানটির পরিবেশনা নিয়ে আসেন শিল্পী উম্মে রুম্মান ও তাঁর দল। চমৎকার এই গানটির পরিবেশনা মুগ্ধ করেছিলো পুরো উপস্থিতিকে। এরপরের পরের পর্ব ছিলো সংগঠন নিয়ে অনুভূতি বর্ণনা। এই পর্বে ছাত্রীসংস্থার জনশক্তিদের হৃদয় নিংড়ানো অনুভূতি উপস্থিত সকলের হৃদয়ে রেখাপাত করেছল। পুরোনো স্মৃতি আর দ্বীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের দিনলিপির বর্ণনা আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করে। চমৎকার এই আয়োজনে নাত পরিবেশন করেন মুক্তি খাতুন। তার কন্ঠে সেদিন সুরের মূর্ছনায় ধ্বনিত হয়েছে–
“এক অনুপম সত্যের সন্ধান
তুমি দিয়ে গেছো হে প্রিয় হযরত,
আমি ধন্য জীবনে মরণে-
হয়েছি তোমার উম্মত।”

সুসজ্জিত অনুষ্ঠানস্থল
অনুষ্ঠানের শেষপর্যায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস-ঐতিহ্যে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থার পদচারণা বিষয়ক চমৎকার উপস্থাপনা করেছেন জনশক্তি সামিরা বিনতে সিদ্দিক। এছাড়া প্রীতিমিলনীতে ছিলো নানাবিধ প্রতিযোগিতার আয়োজন। ইসলামী সংগীত ও আবৃত্তি প্রতিযোগীতা এবং স্পিকার্স ফোরাম। সবগুলো পর্বে সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আয়োজনকে দিয়েছিলো এক নতুন মাত্রা। দেখতে দেখতে প্রাণবন্ত আয়োজনটির যবনিকা টানা হয়ে। শান্ত বিকেলের মৃদু রোদ্দুর আর নীল আকাশের শুভ্র মেঘের ছায়া হয়ে অনবদ্য আয়োজনটি হৃদয়ের গহীনে আবহমানকাল গেঁথে থাকবে। তবুও সেই পবিত্র সুর আর মধুর স্মৃতি নীরবে বলে যায়–
“জীবনের সোনাঝরা দিনগুলো সব-
শীতের পাতার মতো ঝরে যায়,
কোকিলের কুহু তানে ফাগুন আসে
চৈত্রের কাছে সেও হেরে যায়।”