সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে সংঘর্ষে আহত শিক্ষার্থীদের জীবন বাঁচাতে রিকশা নিয়ে ছুটে আসেন তিনি। একে একে আহতদের নিজ রিকশায় তুলে পৌঁছে দেন চবি মেডিকেল সেন্টারে। তিনি কোনো পারিশ্রমিক নেন নি। ৮৩ জন আহত শিক্ষার্থীকে বিনা ভাড়ায় মেডিকেলে পৌঁছে দিয়ে সৃষ্টি করেছেন মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত। তার নাম মহরম আলী রুবেল। তিনি চবি ক্যাম্পাসের একজন রিকশা চালক। তার এমন মহতি কাজে সন্তুষ্ট হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি রিকশা চালক রুবেলকে বিশেষভাবে পুরস্কৃত করেছে।
বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে তাঁকে পুরস্কৃত করে প্রক্টরিয়াল বডি।
গত ৩১ আগস্ট ও ১ সেপ্টেম্বর চবি শিক্ষার্থীদের ওপর ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার সময় আহত শিক্ষার্থীদের মানবিক সহায়তা করেন রিকশাচালক রুবেল। পেশায় তিনি একজন সাধারণ রিকশাচালক হলেও তার এমন মানবিকতা ও সাহসিকতা সেদিন এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে ক্যাম্পাসজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অনাকাঙ্ক্ষিত সেই সংঘর্ষের সময় অসংখ্য শিক্ষার্থী আহত হন। একের পর এক শিক্ষার্থী আহত হয়ে হাসপাতালে আসতে থাকেন। সেই ভয়াল পরিস্থিতিতে যখন অধিকাংশ যানবাহন ভয়ে ক্যাম্পাস ছেড়ে পালিয়েছিল, তখন রুবেল তার রিকশা নিয়ে এগিয়ে আসেন। তিনি কোনো ভাড়া ছাড়াই প্রায় ৮৩ জন আহত শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে পৌঁছে দেন। শুধু তাই নয়, অনেক গুরুতর আহত শিক্ষার্থীকে তিনি নিজ হাতে রিকশায় তুলেছেন। রুবেলের এই মহৎ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি তাকে পুরস্কৃত করেছে।
জানতে চাইলে চবি সহকারী প্রক্টর নুরুল হামিদ কানন বলেন, “মহরম আলী রুবেল পেশায় একজন রিক্সাচালক হলেও চিন্তায় ও মননে পুরোদস্তুর একজন মানবিক মানুষ। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনায় ৮৩ জন আহত শিক্ষার্থীকে চবি মেডিকেল সেন্টারে বিনা ভাড়ায় নিজের রিক্সায় যাত্রী হিসেবে সেবা দিয়ে অনন্য নজির স্থাপন করেছেন তিনি। প্রক্টরিয়াল বডির পক্ষ থেকে রুবেলকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। তার সরলতা, সততা, মানবিকতা ও দায়িত্ববোধের জন্য এই পুরস্কার।”
উল্লেখ্য, গত ৩১ আগস্ট ও ১ সেপ্টেম্বর চবি শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছিল। যেখানে প্রায় ৪ শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছিল।