জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে মনোমুগ্ধকর আয়োজনের মধ্য দিয়ে কালচারাল ক্লাব ‘চাতক’-এর আত্মপ্রকাশ হয়েছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে নাচ, গান, আবৃত্তি ও নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো বিভাগ।
রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১টায় শিক্ষকদের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। পরে বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা গান, নৃত্য, কবিতা আবৃত্তি ও নাট্যাংশ পরিবেশন করে। দিনব্যাপী এ আয়োজন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আয়োজক ১৬তম আবর্তনের শিক্ষার্থী আশরাফুল ইসলাম বলেন, “সংস্কৃতি হলো একটি জাতির দর্পণ। হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতিকে লালন ও রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আমাদের নবগঠিত ‘চাতক’, ইংরেজি বিভাগ সাংস্কৃতিক সংঘ যেন সেই চিরায়ত বাঙালি সংস্কৃতিকে অন্তরে ধারণ করে সৃজনশীলতার আলোয় এগিয়ে যায়—এই প্রত্যাশাই করি।”
১৬তম আবর্তনের আরেক শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান সোনিয়া বলেন, “যেহেতু আমাদের ক্লাবের মূল লক্ষ্য বাংলার সংস্কৃতি উদযাপন করা, তাই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেই গ্রাম বাংলার সংস্কৃতি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এবং সাজানোর সকল সামগ্রী পরিবেশবান্ধব রাখার চেষ্টা করেছি। এছাড়াও ক্লাবের বিস্তার শুধু নাচ-গানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, আগামীতে বিভিন্ন বিষয়ে সেমিনার, কর্মশালা ও পাঠচক্র আয়োজন করাও ক্লাবের মৌলিক লক্ষ্যের অংশ।”
অনুষ্ঠানের বক্তব্যে সহযোগী অধ্যাপক শেহরিন আতাউর খান বলেন, “বাংলার সংস্কৃতি অনেক বিস্তৃত, তাই ক্লাবের কার্যক্রম শুধু নাচ-গানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাংলার চিরায়ত সংস্কৃতি চর্চা করবে শিক্ষার্থীরা।”
বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাসির উদ্দিন আহমেদ ক্যাম্পাস পোস্ট ২৪-কে বলেন, “সংস্কৃতি চর্চা ছাড়া আসলে কোনো শিক্ষাই পরিপূর্ণ নয়। আমাদের দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রেই বাংলাদেশি অর্থাৎ মা ও মাটির সংস্কৃতি চর্চা করা উচিত।”
বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. তানিয়া তাহমিনা বলেন, “আমরা অনেক আগ থেকেই এমন একটি ক্লাব করার কথা ভাবছিলাম। তাই আমরা সর্বশেষ একাডেমিক মিটিংয়ে ক্লাব গঠনের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে একাডেমিক ছাড়াও শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত করার জন্য একটি প্ল্যাটফর্মের ব্যবস্থা করা। ক্লাবের কাজ নির্বিঘ্নে করার জন্য নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং সামনেও আমাদের অনেক পরিকল্পনা আছে।”