প্রতিবাদ লিপিতে চবি শিবির বলে,
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকসু নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি হয়েছে। গত ২৪ আগস্ট (রবিবার) ছাত্রশিবিরের তফসিল চেয়ে অবস্থান কর্মসূচির পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগামী বৃহস্পতিবার চাকসুর তফসিল দেয়ার সম্ভাব্য তারিখ জানানো হয়। এরপর গত ২৫ আগস্ট (সোমবার) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল কর্তৃক প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ এর নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও রেজিস্ট্রারের (কমিটিতে না থাকা সত্ত্বেও) পদত্যাগ চেয়ে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে রেজিস্ট্রারের একটি মন্তব্যকে উপলক্ষ্য করে রেজিস্ট্রার ও প্রক্টরের পদত্যাগ চেয়ে ক্যাম্পাসে ঝটিকা মিছিল করে শাখা ছাত্রদল। ইসলামী ছাত্রশিবির, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা মনে করে, ছাত্রদলের এসব কর্মকান্ড আসন্ন চাকসু নির্বাচন বানচাল করার উদ্দেশ্যে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির ষড়যন্ত্র।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোহাম্মদ আলী এবং সেক্রেটারি মোহাম্মদ পারভেজ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রায় দীর্ঘ ৩৬ বছর যাবৎ তাদের যাবতীয় অধিকার আদায়ে বৈধ ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচন করা থেকে বঞ্চিত ছিল। যার ফলে শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত আবাসন, সেশনজট এবং যাতায়াতসহ নানা সমস্যা নিয়ে শিক্ষাজীবন পরিচালনা করছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ১ বছরের অধিক সময় পর চাকসু নির্বাচনের তফসিল হওয়ার পূর্ব মুহূর্তে ছাত্রদল কর্তৃক চাকসু বন্ধের এমন হীন প্রচেষ্টার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, ছাত্রদলের স্মারকলিপিতে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, “চবি প্রশাসন দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে প্রক্টর মহোদয় একটি ছাত্র সংগঠনকে বিশেষ সুবিধা প্রদান করে অন্যদের সঙ্গে বিমাতাসুলভ আচরণ করছেন। ছাত্র প্রতিনিধির নামে নিজের আশীর্বাদপুষ্ট ছাত্র সংগঠনের নেতাদের বিভিন্ন জায়গায় দায়িত্ব দিয়েছেন। তাছাড়া নানা সময়ে তিনি ঐ ছাত্র সংগঠনের মুখপাত্রের মতো আচরণ করেছেন। গত কয়েক মাসে তিনি তার পছন্দের ছাত্র সংগঠনের হয়ে নানা স্থানে ক্যাম্পেইন চালিয়েছেন।” পরবর্তীতে গণমাধ্যমে ওই সংগঠনটির পরিচয় হিসেবে ছাত্রশিবিরকে জড়ানো হয়। ছাত্রদল কর্তৃক এমন বক্তব্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাদের বক্তব্যে ছাত্রশিবিরকে অনৈতিকভাবে কোনো সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছেন এমন কোনো সুস্পষ্ট তথ্য প্রমাণ নেই। তথ্য প্রমাণবিহীন এমন বক্তব্য ছাত্রশিবিরকে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে ছাত্রদলের পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বলে মনে করছি।
ক্যাম্পাসের ক্রিয়াশীল সকল ছাত্রসংগঠনকে উদ্দেশ্য করে নেতৃবৃন্দ বলেন, ক্যাম্পাসের সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশ বিনষ্ট করে এবং চাকসু নির্বাচনে বাধা সৃষ্টি করে এমন সকল কার্যক্রম থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান করছি।