টাঙ্গাইলের মধুপুর থানার কুড়ালিয়া গ্রামে কেওটাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বিষপান করেন গত ২৪ জুন। শুক্রবার ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান এই শিক্ষিকা।তিনি ইডেন মহিলা কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ছিলেন।
জানা যায় মধুপুরের গোবিনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইবনে মাসুদ রানার সাথে প্রেমের সম্পর্ক ছিলো তার।
আরও জানা যায়, লাকীর সাথে মাসুদের প্রেমের সম্পর্ক হয় টাঙ্গাইলে পিটিআই ট্রেনিং করার সময়। একসময় মাসুদ তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারিরীক সম্পর্ক ও করেন। কিন্তু পরবর্তীতে বলেন তিনি বিবাহিত। স্ত্রী সন্তান রেখে বিয়ে করতে পারবেন না লাকীকে।
এরই সূত্র ধরে লাকীর জীবন হয়ে ওঠে বিষময়। সমাজ, পরিবার, মান সম্মান সবকিছুই এভাবে তিনি হারালেন । অবশেষে নিজ বাড়িতে বিষপানে আত্মহত্যার উদ্যোগ নেন লাকী।
তার মা বাবা লাকীর বিষের যন্ত্রণায় ছটফট করা দেহটাকে নিয়ে যান হাসপাতালে। সেখান থেকে দুদিন পর মৃত ঘোষণা করা হয় তাকে।তার রুমে খুঁজে পাওয়া যায় একটি ডায়েরি যাতে তিনি লিখে রেখে গেছেন ১১ পৃষ্ঠার সুইসাইড নোট।
তিনি সেখানে মাসুদকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন, যখন আমি তোমার কথা বিশ্বাস করলাম, ভরসা করলাম, ভালোবাসলাম তখন তুমি আমার হাত ছেড়ে দিলে।তুমি আমাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ভোগ করলে। আমি কি দোষ করেছিলাম, আমাকেই কেন টার্গেট করলে।সমাজের কাছে আমাকে অপরাধী করলে।
তিনি আরো লিখেছেন,তুমি বিবাহিত তোমার দোষ হবে আমারই দোষ। আমি তোমার ফাঁদে পা দিয়েছি। তুমি আমাকে খুন করে ফেললে জান। আর আমার সাথে যা করলে দুনিয়ার কোনো মানুষের সাথে করো না প্লিজ।
এছাড়াও তিনি লিখেছেন, আমি চাইলে ধর্ষণ মামলা করতে পারতাম,জোর করে বিয়ে করতে পারতাম কিন্তু আমি বেঁচে থাকতে তা দেখতে পারবো না, আমি মরে যাওয়ার পরে যা হয় হোক।
লাকীর মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন তার পরিবার। তার বাবা আব্দুল লতিফ বাদী হয়ে অভিযুক্ত মাসুদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন মধুপুর থানায়। তারা চান এর উপযুক্ত বিচার হোক।
এ নিয়ে বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন কেওটাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক সকলে।তারা লাকী আক্তারের মৃত্যুর সুষ্ঠু বিচারের দাবি করেন।স্কুলের প্রধান শিক্ষক হাসিনা খাতুন বলেন, তিনি ২০২৩ সালে ২২ জুন কেওটাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা পেশায় যোগদান করেন।তিনি খুবই মেধাবী শিক্ষক ছিলেন। তার মৃত্যুতে আমরা ব্যথিত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার ডায়েরির লেখা দেখে আমরা হতবাক হয়েছি।
এদিকে ঘটনাটির পরে মাসুদের সাথে যোগাযোগ করে পাওয়া যায় নি। তবে মধুপুরে তার কর্মস্থল গোবিনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিলরুবা খান বলেন,আমি সামাজিক,যোগাযোগ মাধ্যমে জানতে পারি সবটা।ইবনে মাসুদ রানা তিন দিনের জন্য ছুটি নিয়েছেন রোববার। তার স্ত্রীর মাধ্যমে ছুটির আবেদন পাঠিয়েছিলেন।
এ ব্যাপারে মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এমরানুল কবীর বলেন,লাকীর বাবা বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন আইনগত পদক্ষেপ নেয়া চলমান রয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর সুনির্দিষ্টভাবে পদক্ষেপ নেবো।