বিশ্ব বাবা দিবস উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে বাবাকে নিয়ে তাদের অনুভূতি ও স্মৃতির গল্প তুলে ধরা হয়েছে।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তামান্না মুন্নি বলেন, বাবা তার জীবনের প্রথম হিরো। হাঁটতে শেখার আগেই বাবাই তার পথ দেখিয়েছেন। ছোটবেলা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে বাবার স্নেহ ও ছায়া তিনি অনুভব করেন। বাবার নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও নিরব ভালোবাসাই তাকে আজকের অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে।
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মীর মাহফুজারা রহমান মনে করেন, বাবা কখনো আবেগ প্রকাশ করেন না, কিন্তু প্রয়োজনের মুহূর্তে তিনি ছায়ার মতো পাশে থাকেন। তার প্রতিটি সিদ্ধান্ত, নীরব উপস্থিতি সন্তানদের জন্য এক অদৃশ্য আশ্রয়। তার মতে, বাবারা মুখে ভালোবাসা না বললেও, তারা কাজের মাধ্যমেই ভালোবাসার শক্তিশালী রূপ প্রকাশ করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাকিবুল বাপ্পির মতে, বাবা তার আত্মবিশ্বাসের ভিত্তি। জীবনে যতবার তিনি হেরেছেন, ততবার বাবার কথা মনে করে নিজেকে নতুন করে গুছিয়ে নিয়েছেন। বাবার ছোট ছোট কথায় তিনি খুঁজে পান সাহস ও শক্তি। সেই নির্ভরতা তাকে প্রতিটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়তা করেছে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী মো. ইথারুল ইসলাম বলেন, বাবা শুধু অভিভাবকই নন, বরং জীবনের প্রথম শিক্ষক। ছোটবেলার শাসন তখন কঠিন মনে হলেও এখন বুঝতে পারেন, তাতে ছিল অন্তহীন ভালোবাসা ও মূল্যবোধের শিক্ষা। বাবার কাছ থেকেই তিনি শিখেছেন মানুষ হওয়া, দায়িত্ব নেওয়া এবং জীবনের প্রতি শ্রদ্ধা রাখা।
শুধু একটি দিন নয়, বাবা দিবস যেন প্রতিদিনের সেই ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার প্রতিচ্ছবি, যা অনেক সময় মুখে প্রকাশ না পেলেও অন্তরে প্রতিনিয়ত অনুভব করা যায়। শিক্ষার্থীদের এইসব অভিব্যক্তিতে স্পষ্ট—‘বাবা’ কেবল সম্পর্কের নাম নয়, বরং সন্তানের জীবনের সাহস, নির্ভরতা, নিরাপত্তা ও নিরব ভালোবাসার আশ্রয়।
বাবারা নিঃশব্দে ভালোবাসেন, আর সেই ভালোবাসা সন্তানের জীবনের বটবৃক্ষ হয়ে চিরকাল ছায়া দিয়ে যান। তাই বিশ্ব বাবা দিবসে সন্তানের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা শুধু আনুষ্ঠানিকতাই নয়, এটি প্রতিদিনের অনুভব থেকে উৎসারিত কৃতজ্ঞতার প্রকাশ।