প্রেমের টানে গোপালগঞ্জের তরুণী আরুহী চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে রিতু আক্তারের বাড়ীতে। তাদের দাবী, এক বছর আগে মোবাইলে টিকটিকের মাধ্যমে পরিচয়ের পর বিয়ে হয়েছে।শনিবার সকালে তাদের দুইজনকে পুলিশের হাতে তুলে দেন এলাকাবাসী। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
বছরখানেক আগে টিকটকে পরিচয়। তারপর শুরু হয় প্রেম। ম্যাসেঞ্জারে বিয়ে। এমন তথ্যের ভিত্তি করে দুই তরুণী নিজেদের বিয়ে হয়েছে দাবী করেন। দুইজনে পালিয়ে ঢাকায় বাসা ভাড়া করে ছিলেন কয়েকদিন। দুই প্রান্ত থেকে দুই পরিবার পুলিশের স্বরণাপন্ন হয়ে দুইজনে উদ্ধার করে। দুই পরিবারের জিম্মায় দেয়া হয় তাদের। কয়েকদিন যোগাযোগ বন্ধ থাকলেও শুক্রবার গোপালগঞ্জ কোটালিপাড়া থেকে আরুহী মৃধা লোপা নামের তরুণী ছুটে গেলেন চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের বিলকিস আক্তার রিতুর বাড়ীতে। চাঞ্চল্যকর পরিবেশের সৃষ্টি হয় এলাকায়। শনিবার সকালে পুলিশের হাতে দুই তরুণীকে সোপর্দ করে এলাকাবাসী।
এলাকাবাসীর পক্ষে আলমগীর হোসেন বলেন, ‘শুক্রবার রাতে বিষয়টি জেনে রিতুদের বাড়ীতে যাই। মেয়ে মেয়ে প্রেম বিয়ে। এ আজব ঘটনা। গোপালগঞ্জের মেয়ে আবার ভিন্ন ধর্মের।’
মাসুদ নামের আরেক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, রাতে পুলিশ খবর দেয়া হয়। পুলিশ স্থানীয় েইউপি সদস্যের কাছে মেয়েকে জিম্মা দেয়। সকালে দুইজনকে ওই ইউপি সদস্য থানায় দিয়ে আসেন।
দুই তরুণীর দাবী, তারা একে অপরকে বিয়ে করেছেন। একসাথে সংসার করবেন। তা না হলে বেঁচে থাকা কষ্ট হবে তাদের।
চাঁদপুরের তরুণী বিলকিস আক্তার রিতু বলেন, আমি আরুহীকে বিয়ে করেছি। সে আমার স্বামী। তার সাথেই থাকবো। কোন বাঁধা মানি না। পরিবারের কথা মানিনা। যোগাযোগের জন্য আরুহী একটা মোবাইলও কিনে দিয়েছে।
গোপালগঞ্জের তরুণী আরুহী মৃধা লোপা বলেন, টিকটকে পরিচয়। ম্যাসেঞ্জারে বিয়ে হয়েছে। ছেলেদের সাথে প্রেম বিয়ে করার চেয়ে মেয়ে মেয়ে ভালো। আমরা দুইজন সুখে- শান্তিতে থাকতে চাই। পরিবার না খাওয়ালে দুজনে মিলে কাজ করবো। ধর্ম
পরিবর্তন করে মুসলিম হবে বলেও সিদ্ধান্ত নেয় এই তরুণী।
দুইজন দুই ধর্মের। আবার দুইজন মেয়ে। এটা সম্ভব না। ছোট বোনটাকে নিয়ে বেকায়দায় পরিবার। রিতুর পরিবারের দাবী, আরুহী তার বোনকে স্বাভাবিক জীবনে থাকতে দিচ্ছে না। তারা প্রাণপণে চেষ্টা করছেন বোনকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আনতে।
বিলকিস আক্তার রিতুর বড় বোনমুনিয়া বেগম সেতু বলেন, আমার বোনেরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে চাই। মা কান্না করছে। বোনকে আসক্ত করে নিয়ে যেতে চায়। কি প্রেম?
ফরিদগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহ্ আলম বলেন, এরআগেও রিতুর পরিবার থানায় নিখোঁজ ডায়েরী করেন। পরে দুজনকে উদ্ধার করে পরিবারের জিম্মায় দেয়া হয়। এখন আবার তারা একসাথ হয়েছে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানান তিনি।
রিতু চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় সাকদী রামপুর গ্রামের নোয়া বাড়ীর বাসিন্দা। সে একটি কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করে আর আরুহী গোপালগঞ্জের কোটলিপাড়ার লখন্ডা গ্রামের বাসিন্দা। সে এসএসসি পাশ করেছে।